advertisement
advertisement

আমন কাটতেই শীতকালীন ফসলের স্বপ্নে রংপুরের কৃষক আগাম জাতের ধান ঘরে তুলছেন কৃষক, বাড়তি খরচে কমছে লাভ


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
আমন কাটতেই শীতকালীন ফসলের স্বপ্নে রংপুরের কৃষক আগাম জাতের ধান ঘরে তুলছেন কৃষক, বাড়তি খরচে কমছে লাভ

আমন কাটতেই শীতকালীন ফসলের স্বপ্নে রংপুরের কৃষক। ছবি-সংগৃহীত

advertisement
রংপুর অফিস, ধরলা পোস্ট 
ধান কাটার মৌসুম পুরোপুরি শুরু হতে এখনও কয়েক সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে রংপুর অঞ্চলের উঁচু জমিতে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান ঘরে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই জমি প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। লক্ষ্য—আগাম শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করে একই জমি থেকে বাড়তি আয় করা।
কৃষকেরা বলছেন, আগাম আমন চাষের অন্যতম সুবিধা হলো ধান কাটার পর দ্রুত শীতকালীন ফসল আবাদ করা যায়। ফলে একটি জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব হয়। তবে সার, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এতে ফলন মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও কৃষকের লাভ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রংপুরের পাগলাপীর এলাকার কৃষক সুরেশ চন্দ্র বর্মণ (৬৫) পাঁচ বিঘা জমিতে আগাম আমন চাষ করেছেন। এর মধ্যে তিন বিঘা জমি থেকে ৪৯ মণ ধান পেয়েছেন। বাকি দুই বিঘা জমির ধান আরও এক সপ্তাহ পর কাটবেন তিনি।
সুরেশ চন্দ্র বলেন, আগাম আমনে বিঘাপ্রতি ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান পাওয়া যায়। সাধারণ আমনের তুলনায় ফলন কিছুটা কম হলেও ধান আগেই ঘরে ওঠে। এবার প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। গত বছর একই জমিতে খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। ধান কাটার পর ফুলকপি, গাজর, বেগুন ও ধনিয়াপাতা চাষ করবেন তিনি। পরে এসব সবজি তুলে আবার বোরো ধান আবাদ করবেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট গ্রামের কৃষক আদিলুর রহমান (৫৫) ছয় বিঘা জমিতে আগাম আমন চাষ করে ১০১ মণ ধান পেয়েছেন। তাঁর হিসাবে, এবার ওই জমিতে খরচ হয়েছে ৮৭ হাজার টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ হাজার টাকা বেশি।
তিনি বলেন, ‘ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু সার, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে গেছে। তবে আগাম ধান কাটার সুবিধা হলো দ্রুত শীতকালীন সবজি চাষ করা যায়।’
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন (৬০) চার বিঘা জমি থেকে ৬৯ মণ আগাম আমন ধান পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এ বছর ধানে তেমন রোগবালাই দেখা দেয়নি এবং ফলনও আশানুরূপ হয়েছে। ধান কাটার পর তিনি জমিতে আগাম ফুলকপি লাগাবেন।
অন্যদিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর যাত্রাপুরের কৃষক রইছ আলী মণ্ডল (৬০) জানান, ব্রহ্মপুত্রপাড়ে এবার বন্যার প্রভাব না থাকায় আগাম আমনের ক্ষতি হয়নি। তাঁর চার বিঘা জমির ধান পেকে গেছে। দুই-তিন দিনের মধ্যেই ধান কাটা শুরু করবেন তিনি। ধান কাটার পর শীতকালীন ফসল আবাদ করবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আমন চাষ হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, উঁচু জমিতে চাষ করা আগাম আমন ধান ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ ধান কাটা চলবে। এরপর নভেম্বরের শুরুতে পুরোদমে আমন কাটার মৌসুম শুরু হবে।
তিনি বলেন, এ বছর বন্যার প্রভাব তুলনামূলক কম থাকায় আগাম আমনের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। ধান কাটার পর কৃষকেরা একই জমিতে ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন ধরনের আগাম শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করছেন। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর